ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করলে শেষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে না—কঠোর সতর্কতা ইরানের স্পিকারের
Share
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুদ্ধ শুরু করেন, তাহলে সেই যুদ্ধ কীভাবে এবং কোথায় গিয়ে শেষ হবে—তা তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে বলপ্রয়োগ বা সামরিক হুমকির মধ্যে কোনো সংলাপে বসবে না তেহরান।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গালিবাফ এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আলোচনা করতে চায়, সেটিকে প্রকৃত সংলাপ বলা যায় না।
গালিবাফের ভাষ্য, “আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না। শক্তি প্রয়োগ করে চাপিয়ে দেওয়া নির্দেশনাকে আমরা সংলাপ হিসেবে দেখি না।” তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন কূটনীতির বদলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ষষ্ঠ দফা আলোচনার মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত আলোচনার টেবিলেই ‘বোমা ফেলেছে’। তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ কেবল আস্থার সংকট বাড়ায় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করে।
গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন না ইরানি জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততদিন কোনো আলোচনায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করে আবার আলোচনার ডাক দেওয়া—এটি দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক চাপের মধ্যে পরিচালিত আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করবে বলেও সতর্ক করেন গালিবাফ। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধের ছায়ায় বসে আলোচনা মানেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দেওয়া। এতে শান্তি নয়, সংঘাতই বাড়ে।”
এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি বলেন, “যদি ট্রাম্প সত্যিই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে চান, তাহলে তাঁকে তাঁর চারপাশের যুদ্ধবাজ ও আত্মসমর্পণের পক্ষপাতী উপদেষ্টাদের থেকে দূরে থাকতে হবে।”
গালিবাফের এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক সংযম ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
