হবিগঞ্জে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা! তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ রেল যোগাযোগ
Share
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনের কাছে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একাধিক ওয়াগন ছিটকে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তেলভর্তি অন্তত ৬টি ওয়াগন ও একটি গার্ড ব্রেক লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে রেললাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি হঠাৎ বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বগি ছিন্নভিন্ন অবস্থায় আশপাশের জমিতে ছিটকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তেলভর্তি ওয়াগনগুলো থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তেল সংগ্রহ নিয়ে চরম হট্টগোল শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ বালতি, বাটি, ড্রামসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন। কেউ কেউ খাল বা পানিতে নেমেও তেল তুলতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্থানীয়দের সরিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির মিয়া দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। তবে এখনো দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনায় ঘটনাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে আগুন লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই দুর্ঘটনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেল রুটে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
