২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি—বড় ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর!
Share
বাংলাদেশকে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নানা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কাজ করে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজস্ব আদায়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে বড় বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও সাধারণ জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, যা সরাসরি মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে।
বর্তমান সরকারের শুরুর দিকেই বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে।
এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও সক্রিয়তা দেখা গেছে। অধিবেশনের ১২তম দিনে মোট ৩১টি বিল পাস হয়েছে, যার মধ্যে ক্রীড়া, জ্বালানি, শ্রম, স্থানীয় সরকার, মানবাধিকার, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এসব বিল উত্থাপন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলে ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিকভাবে, চ্যালেঞ্জের মাঝেও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে সরকারের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপিত হবে।
