ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ নেই: যুবরাজ এমবিএস

Share ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ নেই: যুবরাজ এমবিএস

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না—এমন স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে সরাসরি এই বার্তা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক টেলিফোন আলাপে যুবরাজ এ কথা বলেন। আলাপচারিতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং চলমান উত্তেজনা নিরসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

টেলিফোন সংলাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের যে কোনো উদ্যোগকে রিয়াদ সমর্থন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত বা যুদ্ধ নয়—বরং কূটনৈতিক আলোচনাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ।

এর আগে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজকে বলেছেন—আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক নীতিমালার আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক যেকোনো উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানায়। ইরানও এই মুহূর্তে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে আগ্রহী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সৌদি যুবরাজের এই অবস্থানের আগেই একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আবুধাবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা কিংবা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর এমন অবস্থান আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এর মধ্যেই ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি শক্তিশালী নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ ইরানের দিকে অগ্রসর হয়েছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামরিক শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়টি উঠে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে চলমান বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানান, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও ছিলেন। তাদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটি দেশটির সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রবাসী বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ কারণেই সহিংসতা ও প্রাণহানি ঘটেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই টানটান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অবস্থান আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় কতটা প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo