উত্তর কোরিয়া নিক্ষেপ করল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জাপান সতর্ক
Share
জাপানের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (PMO) শনিবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পশ্চিম উপকূল থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জাপানের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট থেকে শেয়ার করা পোস্টে বলা হয়েছে, “[জরুরি সতর্কতা] উত্তর কোরিয়া একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে। বিস্তারিত আসছে…”
ঘটনাপ্রেক্ষিত
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছে, পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়া তাদের পশ্চিম উপকূল থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা ও উচ্চতা
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে (GMT 04:34) ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর-পূর্ব দিকে নিক্ষেপ করা হয়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের কাছে গিয়ে পড়েছে।
জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)–এর বাইরে পড়ায় এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আশেপাশের বিমান বা জাহাজের ওপরও এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্ববাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালীন এই ধরনের নিক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জাপানের মূল ভূখণ্ড বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আঘাত না হওয়ায় তাত্ক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক নিক্ষেপ কৌশলগতভাবে একটি বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
পরিস্থিতির নজরদারি
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী এই ঘটনা নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখছে। দেশটির নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যদিও আপাতত কোনো সরাসরি হুমকি নেই।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো জরুরি।
