এপস্টেইন বিতর্কে টালমাটাল ব্রিটিশ রাজনীতি: লেবার পার্টি ছাড়লেন লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন
Share
প্রয়াত দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিতর্কের জেরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই বিতর্কের মুখে পড়ে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রভাবশালী নেতা লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় লেবার পার্টির মহাসচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসন জানান, এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান বিতর্কে তিনি আর দলের জন্য ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ তৈরি করতে চান না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
🔹 নতুন নথিতে কী উঠে এলো?
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত কিছু নথিতে দাবি করা হয়, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে তিন দফায় জেফ্রি এপস্টেইন লর্ড ম্যান্ডেলসনকে প্রতি দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার প্রদান করেছিলেন। এই তথ্য সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যান্ডেলসন। তিনি বলেন,
“এই ধরনের কোনো অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমার কোনো স্মৃতি বা লিখিত নথি নেই।”
একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করবেন।
🔹 দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা
চিঠিতে ম্যান্ডেলসন লেখেন,
“এই সপ্তাহান্তে আমাকে আবারও জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্ট আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য আমি গভীরভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।”
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তিনি বিশ্বাস করেন মিথ্যা, তবে এ মুহূর্তে লেবার পার্টির ভাবমূর্তি রক্ষাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই স্বেচ্ছায় সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই সঙ্গে এপস্টেইনের যৌন অপরাধের শিকার নারী ও কিশোরীদের কাছে পুনরায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন ম্যান্ডেলসন। তিনি স্বীকার করেন,
“এপস্টেইন দণ্ডিত হওয়ার পরও তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ছিল আমার বড় ভুল।”
🔹 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
লেবার পার্টির এমপি গর্ডন ম্যাকি বলেন, সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা ‘ন্যায্যভাবেই ক্ষুব্ধ’ হতে পারেন। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ একটি সঠিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের কড়া সমালোচনা করেছে। দলটির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ম্যান্ডেলসনকে বহিষ্কার না করে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, ম্যান্ডেলসনের সদস্যপদ স্থগিত করে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত শুরু করতে।
হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড জানান, ম্যান্ডেলসনের কথিত আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে সরকার আগে অবগত ছিল না।
এপস্টেইনকেন্দ্রিক এই বিতর্ক আবারও দেখিয়ে দিল, অতীতের সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত কীভাবে বর্তমান রাজনীতিকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে। লর্ড ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগে লেবার পার্টির জন্য আপাতত অস্বস্তি কমলেও, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি।
