করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ আগুন: দোকান থেকে উদ্ধার ৩০ দগ্ধ মরদেহ, নিহত ৬১

Share করাচির গুল প্লাজায় ভয়াবহ আগুন: দোকান থেকে উদ্ধার ৩০ দগ্ধ মরদেহ, নিহত ৬১

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের পর গত ১৭ জানুয়ারি লাগা আগুনে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে

পুলিশ জানায়, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকানের ভেতর থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা ভেতর থেকে শাটার বন্ধ করে দেন। তবে ধোঁয়া ও তাপের কারণে সেই বদ্ধ স্থানটিই শেষ পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুকূপে পরিণত হয়।

১৯৮০ সালে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকানবিশিষ্ট এই বিশাল শপিং কমপ্লেক্সটি একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। গত শনিবার ভবনের বেসমেন্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট টানা ২৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ঘটে যায় অপূরণীয় ক্ষতি।

করাচি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বড় প্রাণহানির পেছনে মার্কেট কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনা দায়ী। জানা গেছে, প্লাজায় মোট ২৬টি প্রবেশপথ থাকলেও নিয়মিতভাবে মাত্র দুটি ফটক খোলা রাখা হতো। আগুন লাগার সময় বাকি ২৪টি ফটক বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন।

এ ছাড়া মার্কেটে থাকা অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। করাচির পুলিশপ্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিন্ধ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বর্তমানে এই অগ্নিকাণ্ডকে করাচির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় করাচিজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo