ইরানের বিরুদ্ধে জিসিসির ৬ দেশ একজোট | উপসাগরে যৌথ প্রতিরক্ষা সতর্কবার্তা
Share
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। Gulf Cooperation Council (জিসিসি)-এর ছয় সদস্যরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কৌশলগত ঐক্য জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত জিসিসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই অবস্থান স্পষ্ট হয়। সংগঠনটির যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে তা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে—এবং সেক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জিসিসির সদস্য ছয় দেশ হলো—Saudi Arabia, United Arab Emirates, Bahrain, Oman, Qatar এবং Kuwait। বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এসব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশী নীতির পরিপন্থী। তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির তৃতীয় দিনে কুয়েত আকাশসীমায় এফ-১৫সহ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান—এমন খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তবুও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনার পর থেকে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। ইরান অভিযোগ করে, তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ অঞ্চলে প্রায় ২৮টি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, যার বেশিরভাগই জিসিসি সদস্যদেশগুলোর ভেতরে অবস্থিত।
জিসিসি সনদ অনুযায়ী, কোনো সদস্যদেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা সমষ্টিগত নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রীরা ইঙ্গিত দেন, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির আওতায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই ঐক্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জিসিসি যদি সম্মিলিতভাবে কঠোর অবস্থান নেয়, তবে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। অন্যদিকে, উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর। আন্তর্জাতিক মহল এখন সংযম, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট কতটা বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
