ইসরায়েলে টানা মিসাইল হামলা ইরানের! তেলআবিবে সরাসরি আঘাতের দাবি, সাইরেনে কাঁপছে দেশ
Share
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। গত এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিন দফায় মিসাইল ছোড়ার তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। হামলার পর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোররাত প্রায় পৌনে ২টার দিকে টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরান দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক শহরে সাইরেন শোনা গেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ছোড়া মিসাইলগুলো শনাক্ত করে সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সব মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্তত একটি মিসাইল সরাসরি রাজধানী তেলআবিবে আঘাত হেনেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ইরান একসঙ্গে মোট কতগুলো মিসাইল নিক্ষেপ করেছে, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা বৃহত্তর কৌশলগত বার্তা বহন করতে পারে। উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই হামলা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানালেও, বাস্তব পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার না হলে উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যে কী প্রভাব পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
