মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা: ৬ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাতিল করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
Share
ইরানকে কেন্দ্র করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আকাশপথে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কাতার ও দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানায়। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বাতিল হওয়া যেসব রুট
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুবাই, আবুধাবি, শারজা, দাম্মাম, দোহা এবং কুয়েত সিটি—এই ছয়টি গন্তব্যে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এসব রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমান জানিয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি যাত্রীদের এসএমএস, কল সেন্টার ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যাত্রীদের অযথা বিমানবন্দরে ভিড় না করে নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলে বেড়েছে ভোগান্তি
চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক যাত্রীকে টিকিট পুনঃনির্ধারণ বা রিফান্ড প্রক্রিয়ায় যেতে হচ্ছে।
এদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রবাসী যাত্রীদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক রুটে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ভ্রমণ পরিকল্পনার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
