এপস্টেইন তদন্তে চমক: কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
Share
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে কংগ্রেসীয় তদন্তে সাক্ষ্য দিতে সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এই ঘোষণার পর থেকেই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দম্পতি শিগগিরই কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হবেন। তাঁর মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক চাপের ফল নয়; বরং স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মানসিকতা থেকেই তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন।
⚖️ আইনি চাপের মধ্যেই সিদ্ধান্ত
এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়, যখন রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে আইনি তলব অমান্যের অভিযোগে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়াকে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের একটি ছবি অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি বরাবরই কোনো অনিয়ম বা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হাউস ওভারসাইট কমিটি গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যেখানে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন জানান।
🗣️ “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়”
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার সে সময় বলেন,
“এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
অন্যদিকে, ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা কংগ্রেসের তলবকে ‘আইনগতভাবে কার্যকর নয়’ বলে দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন বিষয়ে ক্লিনটনদের কাছে থাকা সীমিত তথ্য আগেই তদন্ত কমিটির কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। আইনজীবীদের অভিযোগ, এই তলব মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার কৌশল।
📢 মুখপাত্রের অবস্থান
সোমবার সন্ধ্যায় ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান,
“সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনার পরই তারা তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে সম্মত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যাশা রয়েছে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকারদের কেউ কখনো বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। পাশাপাশি, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন—এমন অভিযোগও তিনি ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছেন।
🖼️ ছবি ঘিরে বিতর্ক
কংগ্রেসের নির্দেশে প্রকাশিত ছবিগুলোতে বিল ক্লিনটনকে এপস্টেইনের সঙ্গে এবং তার মালিকানাধীন একটি সম্পত্তিতে দেখা যায়। একটি ছবিতে তাকে সুইমিং পুলে এবং অন্যটিতে হট টাবের মতো স্থানে দেখা গেলেও ক্লিনটনের মুখপাত্রের দাবি, ছবিগুলো বহু পুরোনো এবং এপস্টেইনের অপরাধ প্রকাশ্যে আসার আগেই ক্লিনটন তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
এপস্টেইন তদন্তে ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে, যা সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের পথ খুলে দিতে পারে।
