ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরানো হচ্ছে? বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন চাপ

Share ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরানো হচ্ছে? বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন চাপ

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ দেশটির বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হতে পারে—এমন খবরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি শুধু নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা নয়; বরং বাংলাদেশকে একটি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের কৌশলও হতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত, পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বক্তব্য, এমনকি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও কূটনীতিক তলব—সব মিলিয়ে সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট। সর্বশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এরই মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো তারা আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি। যদিও একটি সূত্র দাবি করেছে, বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে সতর্কতামূলকভাবে পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারত বাংলাদেশকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পোস্টিংয়ের কাতারে রাখা হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তিনি এটিকে ভারতের ‘অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া’ বলেও মন্তব্য করেন।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভারতের চারটি সহকারী হাইকমিশন রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জানুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যেই এসব মিশনের কূটনীতিকদের পরিবার ঢাকা ত্যাগ করেছে। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কূটনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়। এটি বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা নয়, বরং সম্পর্ক আরও সংকুচিত করার ইঙ্গিত দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ বাংলাদেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা বুঝতে আগ্রহী হলেও কট্টরপন্থী মহল সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুই দেশের স্বার্থেই আলোচনার মাধ্যমে আস্থা পুনর্গঠন জরুরি—না হলে সম্পর্কের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo