বেলুচিস্তানে একযোগে হামলা: পুলিশসহ ১০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত, পাল্টা অভিযানে ৫৮ জনের মৃত্যু
Share
পাকিস্তানের অস্থির বেলুচিস্তান প্রদেশে একযোগে চালানো ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় অন্তত ১০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ৫৮ জন হামলাকারীকে হত্যা করেছে। এতে দুই পক্ষ মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। শনিবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, বেলুচিস্তানের ১২টি পৃথক স্থানে এই হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান সরকার এসব হামলাকে ভারত–সমর্থিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, হামলার পরপরই বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযানে নামে নিরাপত্তা বাহিনী। এখনো সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। ফলে নিহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাতে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামের একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে এসব হামলা চালানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (এলইএ) দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে বড় ধরনের নাশকতা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
হামলার সময় গোয়াদর ও খুজদার এলাকায় এক বালুচ শ্রমিক পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলা প্রতিহত করায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন। তিনি নিহত ১০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “পুরো জাতি তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য গর্বিত।” তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সন্ত্রাসীদের অশুভ উদ্দেশ্য নস্যাৎকারী আমাদের সাহসী সন্তানদের আমি স্যালুট জানাই।” নিহতদের জাতীয় বীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি)-এর যৌথ অভিযানে এসব হামলা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কোয়েটার একটি বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
এর আগের দিন বেলুচিস্তানের হারনাই ও পাঞ্জগুর এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও ৪১ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ওই অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি গত ডিসেম্বরে সংঘটিত এক ব্যাংক ডাকাতির লুণ্ঠিত অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানে আন্তসীমান্ত সন্ত্রাসী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সম্প্রতি জানান, ২০২৫ সালে পাকিস্তানজুড়ে ৭৫ হাজারের বেশি গোয়েন্দা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই বছরে দেশজুড়ে ঘটে ৫ হাজার ৩৯৭টি সন্ত্রাসী হামলা, যার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২ হাজার ৫৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
