নাজমুলকে শোকজ বিসিবির,বিপিএল খেলতে মাঠে যাননি ক্রিকেটাররা
Share
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, বিপিএলের চলমান আসরে নির্ধারিত ম্যাচ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্রিকেটার মাঠে না যাওয়ায় টুর্নামেন্টের নিয়ম ও শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্তর ভূমিকা নিয়ে বোর্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ কারণেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ক্রিকেটারের ম্যাচে অনুপস্থিত থাকা বিসিবির চুক্তি ও আচরণবিধির পরিপন্থী। নাজমুলকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে—কেন তিনি বিপিএলের ম্যাচ খেলতে মাঠে যাননি এবং এর পেছনে কী যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে।
এদিকে, নাজমুল ছাড়াও আরও কয়েকজন ক্রিকেটার একই দিনে ম্যাচে উপস্থিত না থাকায় সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আয়োজকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, দল গঠনের সময় খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হলেও হঠাৎ করে মাঠে না আসায় দলগুলো কৌশলগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “বিপিএল দেশের সবচেয়ে বড় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর। এখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের উপস্থিতি শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য নয়, দর্শক ও সম্প্রচার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ আমরা মেনে নেব না।”
এই ঘটনার পর ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি, বিশ্রাম ইস্যু নাকি অভ্যন্তরীণ কোনো সমন্বয়হীনতার কারণে খেলোয়াড়রা মাঠে যাননি। তবে বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএলের মতো বড় আসরে এ ধরনের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নেতিবাচক উদাহরণও তৈরি করতে পারে। তাই বোর্ডের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাজমুল হোসেন শান্ত ও সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিসিবি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কিংবা আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা—সবকিছুই বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড সূত্র।
সব মিলিয়ে, বিপিএলের মাঠের বাইরের এই ঘটনা টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামী দিনে বিসিবির সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।
