জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩: চরকির ‘সুড়ঙ্গ’ জিতল ৮টি স্বীকৃতি, নতুন অধ্যায় ওটিটির
Share
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-এর মঞ্চে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। চরকির সহপ্রযোজনায় নির্মিত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা একাই জিতেছে ৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই সাফল্য শুধুমাত্র সিনেমার নয়, বরং ওটিটি ও প্রেক্ষাগৃহ একসাথে কাজ করে ইন্ডাস্ট্রি গড়ার মডেলের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
‘সুড়ঙ্গ’ জিতেছে নিম্নলিখিত বিভাগে:
-
আফরান নিশো — সেরা অভিনেতা
-
শহীদুজ্জামান সেলিম — সেরা কৌতুক অভিনেতা
-
মনির আহাম্মেদ শাকিল — পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা
-
রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিদ উদ দৌলা — সেরা সংলাপ রচয়িতা
-
অবন্তী সিঁথি — সেরা গায়িকা
-
শহীদুল ইসলাম — সেরা শিল্পনির্দেশক
-
সুমন সরকার — সেরা চিত্রগ্রাহক
-
বীথি আফ্রীন — সেরা পোশাক ও সাজসজ্জা
সিনেমার যৌথ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আলফা আই স্টুডিওজ লিমিটেড, এবং বর্তমানে এটি চরকি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে।
অভিনেতা আফরান নিশোর প্রতিক্রিয়া:
“অনুভূতিটা মিশ্র। একদিকে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, আবার মনে হচ্ছে সুখের সর্বোচ্চ শিখরে আছি। এই পুরস্কার আসলে দর্শক, পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও মিডিয়ার প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের জন্য প্রাপ্য। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
ইন্ডাস্ট্রি তৈরির নতুন ধাপ:
চরকির প্রধান নির্বাহী রেদওয়ান রনি বলেন, “‘সুড়ঙ্গ’ প্রেক্ষাগৃহ ও ওটিটি একসাথে কাজ করে ইন্ডাস্ট্রি তৈরির প্রথম ধাপ। সিনেমার জনপ্রিয়তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ভবিষ্যতে বড় বাজেটের ও কনটেন্ট-ড্রিভেন সিনেমা নির্মাণের প্রেরণা যোগাবে।”
বক্স অফিস সাফল্য:
জাতীয় পুরস্কারের আগেই ‘সুড়ঙ্গ’ রেকর্ড গড়েছে। পরিচালক রায়হান রাফী জানান, “মুক্তির মাত্র সাত দিনে সিনেমাটি আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করেছে। ঢালিউডের জন্য এটি দারুণ খবর।”
ছবির গল্পের সারসংক্ষেপ:
টাকা, লোভ, বিশ্বাসভঙ্গ, বিচ্ছেদ ও অপরাধ—সবকিছুর কেন্দ্রে টাকা। প্রেম, রোমাঞ্চ, গান, কমেডি ও অ্যাকশন—সব মিলিয়ে ‘সুড়ঙ্গ’ একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সিনেমা। আফরান নিশোর সঙ্গে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মনির আহাম্মেদ, মোস্তফা মনোয়ার, অশোক ব্যাপারী ও নুসরাত ফারিয়া (আইটেম গান)।
ওটিটির নতুন অধ্যায়:
‘সুড়ঙ্গ’–এর সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও মানসম্মত কনটেন্ট থাকলে ওটিটি এবং প্রেক্ষাগৃহ একসাথে এগিয়ে যেতে পারে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চরকির জন্যও একটি বড় মাইলফলক, যা বাংলাদেশের বিনোদনশিল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন অনেকেই।
