শবনম ফারিয়া: বাবার স্মৃতি ও মির্জা আব্বাসের ধৈর্য নিয়ে হাস্যরস
Share
অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় সবসময়ই সরব থাকেন। সমসাময়িক ইস্যু, ব্যক্তিগত অনুভূতি বা হাস্যরস—সবকিছু নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করতে তিনি কখনো পিছপা হন না। এবারও একইভাবে নিজের বাবার স্মৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়েই হাস্যরসের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তিনি।
ঢাকা-৮ আসন থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিওগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর শবনম ফারিয়া মনে করেছেন, আব্বাসের অসীম ধৈর্য যেন তার প্রয়াত বাবার শান্ত স্বভাবের প্রতিফলন।
ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “গত কিছুদিন নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিওতে মির্জা আব্বাস সাহেবের ধৈর্য দেখে বাবার কথা মনে পড়ছে।” তবে তিনি শুধু প্রশংসা করেই থেমে থাকেননি, বরং নিজের পরিবারের নারীদের সঙ্গে বাবার জীবনকাহিনীও মজার ছলে শেয়ার করেছেন।
ফারিয়া ব্যাখ্যা করেছেন, তার বাবা ছিলেন ভীষণ ঠান্ডা স্বভাবের মানুষ, কিন্তু মা ছিলেন সম্পূর্ণ উল্টো—কঠোর ও দৃঢ়। দাদির শাসনে বেড়ে ওঠা বাবার জীবন কেটেছে মা, স্ত্রী ও তিন কন্যার অধীনে। তিনি কৌতুক করে লিখেছেন, “আমি প্রায়ই হাসতে হাসতে বলি, আমার বাবার তো জান্নাত অনেকটাই কনফার্ম। এই মানুষটি ৪১ বছর আমার মাকে, ৬২ বছর তার মাকে এবং পরবর্তীতে তার তিন কন্যাকে—এই ভয়ংকর পাঁচ মহিলাকে হাসিমুখে সহ্য করে গেছেন। তার শাস্তি তো দুনিয়াতেই শেষ, আর কী শাস্তি পাবে!”
শবনম ফারিয়া আবারও স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর পোস্ট নিউজ বা ধর্মের সঙ্গে কোনো গভীর সম্পর্ক নেই। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখেছেন, “আল্লাহ ওয়াস্তে এইটা নিয়ে নিউজ করবেন না। প্লিজ। আর দয়া করে ধর্মীয় কোনো বিষয় এতে যুক্ত করবেন না। এটি কোনো সিরিয়াস স্টেটমেন্ট নয়।”
তবুও, অভিনেত্রীর এই অনুরোধকেও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। নেটিজেনরা তাঁর রসিকতা এবং বাবার স্মৃতিচারণে মজেছেন, পাশাপাশি মির্জা আব্বাসের ধৈর্যও প্রশংসা করেছেন।
ফারিয়ার এই খোলামেলা ও হাস্যরসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে শুধুই অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরল ও মানবিক ভাবমূর্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।
চারপাশে উৎসাহ ও সমালোচনা থাকলেও শবনম ফারিয়া প্রমাণ করেছেন—একজন পরিচিত অভিনেত্রীও খোলামেলা মনের সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গে মজা করতে পারেন, যা পাঠক ও দর্শককে বিনোদন এবং মানবিক সংযোগের অনুভূতি দেয়।
