বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সায়েম গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, দেশের জন্য গর্বের খবর
Share
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ডাক পেয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী আবু সায়েম সেফাতুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবু সায়েম ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবু সায়েমকে অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর লিখেছেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো আমাদের শিক্ষার্থী গুগলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগ পেলেন। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও সিএসই বিভাগের জন্য একটি বিশাল অর্জন।”
অধ্যাপক আরও জানান, “আবু সায়েম টিম ‘রবোট্রাস’ এর হয়ে পূর্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসিপিসি (ICPC) এবং এনসিপিসি (NCPC) প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৭–২০২০ সালের মধ্যে এ টিমের অফিসিয়াল কোচ হিসেবে আমি গর্বিত। তার সাফল্য ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।”
আবু সায়েম সেফাতুল্লাহ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “সিএসই তে যারা পড়েন, তাদের সবাই চাই গুগলের মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে। আমারও সেই লক্ষ্য ছিল। প্রথম বর্ষ থেকেই কন্টেস্ট প্রোগ্রামিং করতাম। সপ্তম সেমিস্টারে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি থেকে অফার পেয়েছিলাম। সেই সময় থেকে লক্ষ্য গুগলে কাজ করা।”
তিনি আরও জানান, “গুগলের ইন্টারভিউ প্রসেস অত্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন। গত নভেম্বর মাসে আমার ইন্টারভিউ শুরু হয়। চার-পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন রাউন্ড সম্পন্ন করতে হয়েছে। প্রতিটি রাউন্ড শেষে উত্তেজনা ছিল—‘হবে কি হবে না’। ফাইনালি সব কিছু পার করে যখন অফার পেলাম, তার অনুভূতি বর্ণনার বাইরে।”
আবু সায়েমের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত গর্বই নয়, বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিক্ষার জন্যও বড় অর্জন। বিভাগের শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতেও আরও শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। তারা মনে করছেন, মনির্ষণ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কেউ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জগতের অংশ হতে পারে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরা বলেন, এই ধরনের অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
আবু সায়েমের পদচারণা প্রযুক্তি জগতে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে—যেখানে স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।
