সোনার দামে লাগামহীন উল্লম্ফন, এক ভরি গয়নায় খরচ ছাড়াল ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা
Share
দেশে সোনার বাজারে যেন লাগামহীন উল্লম্ফন চলছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই সোনার দাম অস্বাভাবিক গতিতে বাড়তে থাকে, যা সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ভরিপ্রতি সোনার দাম প্রায় ২৭ হাজার টাকা বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম উঠে যায় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। পরে রাতে ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমানোর ঘোষণা এলেও আজ শুক্রবার থেকে সোনার বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা।
তবে এখানেই শেষ নয়। সোনার অলংকার কিনতে হলে মূল দামের সঙ্গে যোগ হচ্ছে ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬ শতাংশ মজুরি। ফলে এক ভরি সোনার গয়না তৈরিতে মোট ব্যয় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায়, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের অনেক বাইরে।
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৈশ্বিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত দাম সমন্বয় করছে। তবে বৈধ আমদানির সীমাবদ্ধতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশে সোনার দাম বরাবরই আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি থাকে।
দাম বাড়তে থাকায় বুলিয়ন মার্কেটের অনেক ব্যবসায়ী সোনা বিক্রি না করে মজুত করে রাখছেন। এতে বাজারে পাকা সোনার সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়—বেচাকেনা প্রায় স্থবির। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সোনার দাম অনেক আগেই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আগে অন্তত ছোটখাটো অলংকারের অর্ডার মিলত, এখন সেটিও প্রায় বন্ধ।
বাজুসের সাবেক পরিচালক আনোয়ার হোসেন মনে করেন, সরকার যদি সোনার ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট কমায় এবং ব্যাগেজ রুলসে কিছুটা শিথিলতা আনে, তাহলে বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীনতার সময় যেখানে সোনার ভরি ছিল মাত্র ১৭০ টাকা, সেখানে এখন দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৩৯ গুণ। বিশেষ করে করোনার পর গত পাঁচ বছরে সোনার দাম রীতিমতো লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়লে দেশে সোনার মূল্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা ও বৈধ সরবরাহ বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
