আইএমএফের সতর্কবার্তা: দুর্বল ব্যাংক ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Share আইএমএফের সতর্কবার্তা: দুর্বল ব্যাংক ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জানিয়েছে। সংস্থাটি বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোতে অনিরাপদ তারল্য সরবরাহে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বিনিময় হার সংস্কার সম্পূর্ণ ও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

আইএমএফের এই মন্তব্য আসে বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল ফোর পরামর্শ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। সংস্থাটি বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে শুক্রবার এই বিবৃতি দিয়েছে।

সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংক খাত সংস্কার কৌশল দরকার। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে মূলধনের ঘাটতির নিরূপণ, রাজস্ব সহায়তার কাঠামো, এবং আইনগতভাবে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা।

আইএমএফের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা জোরদার করার আহ্বানও রয়েছে। একইসাথে সংস্থাটি বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করার পাশাপাশি, দুর্বল ব্যাংককে অনিরাপদ তারল্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮.৯ শতাংশে দাঁড়াবে, যা ধীরে ধীরে ২০২৭ সালে প্রায় ৬ শতাংশে নামবে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, দুর্বল কর রাজস্ব, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার প্রয়োগে দেরি হলে নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আইএমএফ আশা প্রকাশ করেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ হবে এবং মধ্য মেয়াদে এটি ধীরে ধীরে ৬ শতাংশে উন্নীত হবে। সংস্থাটি রাজস্ব স্থিতিশীলতা রক্ষা, সামষ্টিক–আর্থিক স্থিতি জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দিয়েছে।

এছাড়া আইএমএফ সুপারিশ করেছে, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, প্রবৃদ্ধিবর্ধক বিনিয়োগ অগ্রাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা

আইএমএফের এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo