স্বর্ণ কিনছেন? ক্যারেট, হলমার্ক ও ভরি–গ্রাম না জানলে ঠকবেন নিশ্চিত

Share স্বর্ণ কিনছেন? ক্যারেট, হলমার্ক ও ভরি–গ্রাম না জানলে ঠকবেন নিশ্চিত

হাজার বছর ধরে স্বর্ণ শুধু একটি ধাতু নয়—এটি সম্পদ, আভিজাত্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতীক। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা সঞ্চয় ও বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই স্বর্ণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আধুনিক সময়ে স্বর্ণ কিনতে গেলে অনেকের মনেই একাধিক প্রশ্ন জাগে। ক্যারেট মানে কী, হলমার্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ, ‘খাদ’ মেশানো স্বর্ণ কি ভেজাল, আর ভরি ও গ্রামের হিসাবই বা কীভাবে বুঝবেন—এসব বিষয় জানা না থাকলে বিভ্রান্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো ক্যারেট। এই মান অনুযায়ী স্বর্ণকে সাধারণত ২৪, ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে ভাগ করা হয়। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ সবচেয়ে খাঁটি—প্রায় শতভাগ বিশুদ্ধ। তবে এটি অত্যন্ত নরম হওয়ায় দৈনন্দিন ব্যবহারের গহনা তৈরিতে উপযোগী নয়। তাই বাজারে গহনার ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেট বা তার নিচের ক্যারেটের স্বর্ণই বেশি ব্যবহৃত হয়।

এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—তাহলে কি সবাই ভেজাল স্বর্ণ কিনছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি ভেজালের নয়, বরং ব্যবহারিক প্রয়োজনের। খনি থেকে পাওয়া খাঁটি স্বর্ণ খুব নরম হওয়ায় গহনা টেকসই করতে এতে তামা, রুপা, দস্তা বা নিকেলের মতো ধাতু মেশানো হয়। এই অতিরিক্ত ধাতুকেই বলা হয় ‘খাদ’। খাদ যত বেশি মেশানো হয়, স্বর্ণ তত শক্ত হয়, তবে বিশুদ্ধতার হার কমে যায় এবং ক্যারেটও নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশে গহনা তৈরির জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ২২ ক্যারেট স্বর্ণ, যার বিশুদ্ধতা প্রায় ৯১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। নিত্যদিনের ব্যবহারের গহনায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণও বেশ প্রচলিত। এটি তুলনামূলক বেশি শক্ত হওয়ায় আংটি, চেইন, ব্রেসলেট বা সূক্ষ্ম ডিজাইনের গহনাতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণে খাদ বেশি থাকায় এটি আরও শক্ত এবং হীরা বা দামী পাথর বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

স্বর্ণ কেনার সময় ওজন পরিমাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ভরি, আনা ও রতি শব্দগুলো বহুল ব্যবহৃত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণের ওজন মাপা হয় গ্রাম ও ট্রয় আউন্সে। এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম এবং এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০ গ্রাম। বাস্তবে দেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় গ্রাম হিসেবেই, যদিও ক্রেতাদের বোঝার সুবিধায় ভরির হিসেবে দাম জানানো হয়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানায়, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ব্যবসায়ীরা মূলত গ্রাম এককেই কেনাবেচা করেন। তাদের মতে, গ্রামই সবচেয়ে নির্ভুল ও স্বচ্ছ পরিমাপ পদ্ধতি।

স্বর্ণের খাঁটি-নকল যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো হলমার্ক। গহনার গায়ে খোদাই করা নির্দিষ্ট সংখ্যা দেখে ক্যারেট ও বিশুদ্ধতা বোঝা যায়। যেমন—২৪ ক্যারেটের জন্য ৯৯৯.৯, ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬, ২১ ক্যারেটের জন্য ৮৭৫ এবং ১৮ ক্যারেটের জন্য ৭৫০। বাংলাদেশে হলমার্ক করা স্বর্ণ বিক্রি বাধ্যতামূলক হলেও এখনো সব দোকানে এটি পুরোপুরি মানা হয় না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বর্ণ কেনার সময় ক্যারেট, ওজনের একক ও হলমার্ক ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। বাজার অস্থির হলেও এসব মৌলিক তথ্য জানা থাকলে নিরাপদ বিনিয়োগ ও সঠিক দামে স্বর্ণ কেনা অনেক সহজ হয়ে যায়।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo