ফ্ল্যাট–জমি কেনায় বড় সুখবর! নিবন্ধন খরচ অর্ধেকে নামানোর সুপারিশ

Share ফ্ল্যাট–জমি কেনায় বড় সুখবর! নিবন্ধন খরচ অর্ধেকে নামানোর সুপারিশ

ফ্ল্যাট ও জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনের সময় যে কর ও ফি পরিশোধ করতে হয়, তা বর্তমান হারের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। বাস্তবায়ন হলে দেশের আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে ঢাকা মহানগর এলাকায় জমি, প্লট বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের মোট ব্যয় গড়ে সাড়ে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ এক কোটি টাকার একটি সম্পদ নিবন্ধন করতে কর ও ফি মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। এই উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতাই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় নিরুৎসাহিত হন কিংবা আনুষ্ঠানিক লেনদেন এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার। কমিটি সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে সহজ ও বাস্তবমুখী করার একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎসে কর ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৫ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশনে ৩ শতাংশ এবং পৌরসভা এলাকায় ২ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয় দেড় শতাংশ স্ট্যাম্প শুল্ক, ১ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ৩ শতাংশ স্থানীয় সরকার ফি এবং ভ্যাট। ফ্ল্যাটের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য হয়। ফলে ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি মাঝারি আকারের ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ব্যয় অনেকের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।

এ ছাড়া যেকোনো স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ১ শতাংশ হারে কর কেটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নিকট আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে কোনো কর নেই। এই ব্যবস্থায় কর নেট সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে কমিটি।

প্রতিবেদনে ব্যাংক খাত সম্পর্কেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা থাকা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ৩ লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকলেই আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়, যা অনেক ছোট আমানতকারীর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা বা এফ-কমার্স কার্যক্রমকে করের আওতায় আনতে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাণিজ্য দ্রুত বাড়লেও এখনো এই খাতের বড় অংশ কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।

কর কাঠামো সহজ করতে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপর সারচার্জ বাতিল এবং করযোগ্য আয় থাকলেও ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি। পাশাপাশি বহুমাত্রিক ভ্যাট হারের পরিবর্তে একক ভ্যাট হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিং খাতে গতি ফিরবে এবং সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo