ব্যাংক খাতে সামনে বড় সংকট? ভবিষ্যতে কঠিন চ্যালেঞ্জের সতর্কতা অর্থ উপদেষ্টার
Share
দেশের ব্যাংকিং খাতের সামনে ভবিষ্যতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সোমবার রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শুধু আর্থিক সূচক ভালো থাকলেই হবে না— ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতা ও শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে সামনে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক চাপে প্রস্তুতির তাগিদ
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক নানা বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ সমঝোতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, আর্থিক নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই ব্যাংকিং সম্ভব নয়। বিশেষ করে ঋণ অনুমোদন, তদারকি এবং আদায়ে স্বচ্ছতা না থাকলে খেলাপি ঋণের সমস্যা আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চিত্র
সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের প্রায় ২ কোটি গ্রাহকের আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।
বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী বছরের মধ্যে এই খেলাপি ঋণ এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
👉 বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে হলে শুধু লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না— প্রয়োজন কার্যকর ঋণ আদায় ব্যবস্থা, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের বিকল্প নেই
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাই এখানে দুর্বলতা থাকলে তার প্রভাব সরাসরি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়বে। তিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নিয়মিত অডিট জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্য ব্যাংক খাতের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত। সময়মতো সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
স্বচ্ছতা, নৈতিকতা ও দক্ষতা— এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই কেবল ভবিষ্যতের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে দেশের ব্যাংকিং খাত।
