সবজি কিনতে হিমশিম,ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি

Share সবজি কিনতে হিমশিম,ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি

নিত্যপণ্যের বাজারে ভোক্তাদের জন্য মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে সবজির দাম চড়া থাকায় ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ পড়ছে, অন্যদিকে ডিমের দামে কিছুটা কমতি আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজির দাম আগের তুলনায় বেশি। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ, বেগুন, করলা, শসা ও টমেটোর দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। শীতকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই এখন বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি মূল্যচাপ জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনে বাজার ছাড়ছেন।

তবে সবজির বাজারের এই চড়াভাবের মাঝেই কিছুটা স্বস্তি এসেছে ডিমের দামে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল তুলনামূলক বেশি, সেখানে এখন তা কমে এসেছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ডিম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খামারে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ডিমের দামে এই কমতি এসেছে। এছাড়া খাদ্যদ্রব্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকায় উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভোক্তারা বলছেন, সবজির দামে স্বস্তি না মিললেও ডিমের দামের এই কমতি অন্তত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কেনার সুযোগ তৈরি করেছে। অনেক পরিবারই এখন মাছ বা মাংসের পরিবর্তে ডিমের ওপর বেশি নির্ভর করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। মৌসুমি সবজির উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানো গেলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে ভোক্তাদের জন্য একদিকে চাপ, অন্যদিকে সামান্য স্বস্তির চিত্র ফুটে উঠছে। সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের বাজার খরচ কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo