প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ, ২৫ মন্ত্রী–২৪ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন প্রকাশ
Share
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ দায়িত্বে রেখেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ এই তিন দপ্তর নিজের অধীনে রাখায় সরকারের নীতি নির্ধারণ ও নিরাপত্তা খাতে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কারা
নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও পরিচিত কয়েকজন নেতা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের।
সালাহউদ্দিন আহমদ হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত খলিলুর রহমান। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে। শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতের দায়িত্বে আছেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)। আর সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ রবিউল আলমকে।
প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব
প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েও বিস্তৃত দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্রে শামা ওবায়েদ ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন।
অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন জোনায়েদ সাকি। শিক্ষা খাতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ববি হাজ্জাজ।
নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অবকাঠামো উন্নয়ন—এই চার খাত নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে দ্রুত ফল দেখানোর প্রত্যাশা রয়েছে জনগণের।
নতুন মন্ত্রিসভা কত দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নে যেতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। শপথ ও দপ্তর বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো সম্পন্ন হলেও সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন গতি আনবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নজর থাকবে কার্যকর পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নের ওপর।
