জয়ের পর রাজনৈতিক চমক! জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান
Share
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজনৈতিক নেতার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি সাক্ষাৎ করবেন ডা. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে। পরে রাত ৮টায় যাবেন নাহিদ ইসলাম-এর বাসায়। বিএনপির প্রেস উইংয়ের এক সদস্য বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসা বেইলি রোড এলাকায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে জোট ও আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতেই এই সফর।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শেষে ঘোষিত ফলাফলে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। শুক্রবার রাতে ২৯৭টি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ গঠনের পথ সুগম হবে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিএনপির এই সৌজন্য সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আগামী দিনের সংসদীয় কৌশল, নীতিগত সমন্বয় এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণের অংশ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব দল একসঙ্গে ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখা নতুন সরকারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির এই উদ্যোগকে অনেকেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। এখন নজর থাকবে—এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের সমঝোতা বা যৌথ অবস্থান সামনে আসে এবং নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনায় তার কী প্রতিফলন দেখা যায়।
