ভোটের অধিকার রক্ষায় সতর্ক বার্তা, সিরাজগঞ্জে উন্নয়নের রোডম্যাপ দিলেন তারেক রহমান
Share
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটের অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। শনিবার বিকেলে আয়োজিত এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জনসভায় তিনি সিরাজগঞ্জের ছয়টি এবং পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পক্ষ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে। এ সময় তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের পাশে ছিল না, যারা পালিয়ে যাওয়া শক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লাখো মানুষের এই জনসমাবেশ প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়। প্রতিপক্ষের সমালোচনার পরিবর্তে বিএনপি দেশের মানুষের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরতে চায়। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়—কে দেশ ও জনগণের জন্য কী করতে চায়। বিএনপি সেই পরিকল্পনাই দিয়েছে। দেশের উন্নয়ন পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপির রয়েছে।”
সিরাজগঞ্জ ও পাবনা অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। উত্তরাঞ্চলজুড়ে কৃষিনির্ভর শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করার লক্ষ্য বিএনপির।
তিনি বিশেষভাবে তাঁতশিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, সিরাজগঞ্জ-পাবনা অঞ্চল তাঁত ও লুঙ্গি উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই শিল্পকে আধুনিকায়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অতীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে চায়, যার মাধ্যমে গৃহিণীরা সরাসরি সুবিধা পাবেন।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হতে না পারে। তরুণদের জন্য আইটি ট্রেনিং, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সরকারি সম্মানী চালুর কথাও বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
শেষে তিনি ধানের শীষে ভোট চেয়ে বলেন, “১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকেই উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের সংকট দূর করতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব ইনশা আল্লাহ।”
