তারেক রহমানকে অভিনন্দন নরেন্দ্র মোদির—বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী
Share
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় মোদি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তারেক রহমান-কে অভিনন্দন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয় তার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টায় ভারত পাশে থাকবে।
এ অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করেছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অভিনন্দন বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা বিদ্যমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির বার্তায় ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করা কূটনৈতিক ভাষায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত বহন করে। এটি নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বার্তাও হতে পারে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করার নীতি অনুসরণ করা হবে। দলটির নেতারা বলছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
