প্রমাণ ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, অনুমতি ছাড়া বাড়িতে পুলিশও নয়—সেলিম উদ্দিনের ঘোষণা
Share
সিলেট-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে তার নির্বাচনী এলাকার কোনো বাড়িতে তাকে না জানিয়ে পুলিশ যেতে পারবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে অবশ্যই নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। প্রমাণ ছাড়া কোনো গ্রেপ্তার বা হয়রানি চলবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জে নিজের নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। বক্তব্যে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি হয়রানি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান।
জনসভায় সেলিম উদ্দিন বলেন, সিলেটের মানুষ আত্মসম্মানবোধে বিশ্বাসী। কারও বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার অর্থ শুধু তাকে নয়, তার পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা। অথচ বর্তমানে কিছু দালালচক্র থানার দারোগাদের ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করছে এবং মামলার নামে বাণিজ্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে আমাকে জিজ্ঞাসা না করে কোনো পুলিশ কারও বাড়িতে যেতে পারবে না। যাকে ধরতে যাবে, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আছে—তা লিখিত প্রমাণসহ দেখাতে হবে। প্রমাণ ছাড়া কোনো দারোগা কারও বাড়িতে যাবে না। এটা আমার চূড়ান্ত কথা।”
নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিরাপদ জীবন ও সম্মান নিয়ে চলতে চাইলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিরাপদে বাড়ি যেতে চান, যদি বাজার করে মাছ নিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে চান, তাহলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এসবও নিরাপদ থাকবে না।”
মা-বোন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম উদ্দিন বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কেউ বাড়ি করতে চাইলে চাঁদা দিতে হয়, দোকান তুললে চাঁদা দিতে হয়, এমনকি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে টাকা না দিয়েই চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এই ধরনের অন্যায় গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারে আর চলবে না। আমরা এমন রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আমাদের রাজনীতি হবে মানুষের নিরাপত্তা ও সম্মানের রাজনীতি।”
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষের ওপর কেউ হাত তুললে সেটিকে তিনি নিজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখবেন। এমন কোনো অন্যায় ঘটলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের মতে, সেলিম উদ্দিনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধের দাবি তুলে ধরেছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে ভিন্নভাবে দেখছেন। তবে নির্বাচনী মাঠে এই বক্তব্য যে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট।
