সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অপমান’— বিস্ফোরক মন্তব্য জামায়াত আমিরের
Share
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতি অপমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (সকাল) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় নিজ নির্বাচনী অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। “জুলাইয়ের কারণে আজ রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে—তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং আমি বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছি,”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় ঐক্য ও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে, যেখানে অনেকেই বলছেন—সংবিধান সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
এদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিরপুরে সড়ক ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, “শুধু মিরপুর নয়, সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা ফজরের পর নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করবে।”
এছাড়া কাফরুল ও মিরপুরকে ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, সামাজিক সচেতনতা ও নাগরিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও জোরালো করতে পারে। তবে একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মতো সামাজিক কর্মসূচি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ প্রশ্নে রাজনৈতিক বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের সামাজিক কর্মসূচি—দুই দিকেই সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এখন দেখার বিষয়, এ ইস্যুতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল কী অবস্থান গ্রহণ করে এবং জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা কোন দিকে মোড় নেয়।
