র্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’—পোশাকেও আসছে বড় পরিবর্তন
Share
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)–এর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নামের পাশাপাশি বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
🔴 তিনি জানান, র্যাবের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাহিনীটির কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার পরই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নাম অনুযায়ী বাহিনীর ভাবমূর্তি ও কার্যক্রম আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ অনুযায়ী বাহিনীর নতুন পোশাক প্রস্তুতের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শিগগিরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🟢 র্যাবের ইতিহাস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বাহিনীটি গঠনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে এর নাম ছিল ‘র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)’। পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) রাখা হয় এবং ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে বাহিনীটি।
প্রায় ২২ বছর ধরে র্যাব সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশব্যাপী নানা আলোচিত অভিযানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাহিনীটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
🔴 দীর্ঘ এই সময়ের পর বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শুধু নাম নয়—এর সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীর কার্যক্রম, কাঠামো ও দায়িত্বেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনা হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’ নামটি বাহিনীর পেশাদারিত্ব, বিশেষায়িত সক্ষমতা ও আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
নতুন নাম ও নতুন পরিচয়ে বাহিনীটির কার্যক্রম দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
