পদত্যাগের ৫০ দিন পরও সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টা! উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন

Share পদত্যাগের ৫০ দিন পরও সরকারি বাসায় সাবেক উপদেষ্টা! উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন উপদেষ্টা পরিষদের দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। সে সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে। পরদিন ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ চৌধুরীর পদত্যাগের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—পদত্যাগের পরও কেন সরকারি বাসা ছাড়েননি সাবেক দুই উপদেষ্টা? তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের প্রায় ৫০ দিন পার হলেও আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম এখনো সরকারি বাসায় অবস্থান করছেন।

ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক মাস আগেই সরকারি বাসা ছেড়ে পরিবাগের একটি বাসায় উঠেছেন। তবে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে হেয়ার রোডের ‘নিলয়-৬’ নম্বর সরকারি বাসায় গিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা জানান, আসিফ মাহমুদ এখনো নিয়মিত ওই বাসা ব্যবহার করছেন। একজন কর্মচারীর ভাষ্য, “স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।”

এলাকায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্যও জানান, এখানে নিয়মিত লোকজন আসেন, বৈঠক হয় এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বলেন, তিনি বেশিরভাগ সময় পরিবাগে অবস্থান করেন।

অন্যদিকে, মাহফুজ আলম হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ–৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে বসবাস করছেন। কবে নাগাদ বাসা ছাড়বেন জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নীতিমালায় নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচনের আগেই তিনি বাসা বুঝিয়ে দেবেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাবেক এই দুই উপদেষ্টা এখনো বাসা ছাড়েননি। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসর বা বদলির পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাসভবনে থাকার বিধান থাকলেও মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে স্পষ্ট সময়সীমা নেই। বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেদিন থেকেই সরকারে ছিলেন আসিফ মাহমুদ, যিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, মাহফুজ আলম ২০২৪ সালের আগস্টে বিশেষ সহকারী হিসেবে যোগ দিয়ে পরে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।

পদত্যাগের পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নিয়ে নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি বলেন, অতীতে পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বাসা ও গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাঁর মতে, নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জায়গায় এ ধরনের আচরণ নেতিবাচক বার্তা দেয়।

এই পরিস্থিতিতে সাবেক দুই উপদেষ্টার সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়টি এখন জনস্বার্থ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo