জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার বাতিল: কূটনীতিক ও এতিমদের জন্য মাত্র দুটি ইফতার আয়োজন প্রধানমন্ত্রীর
Share
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বছর জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ইফতার মাহফিল আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বরাবরের মতো বড় পরিসরের আয়োজন না করে সীমিত আকারে মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি। এই দুটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ বছর প্রধানমন্ত্রীর ইফতার আয়োজন সীমিত রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ মার্চ কূটনীতিকদের সম্মানে একটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হবে। পরদিন ৭ মার্চ এতিম শিশু, আলেম-উলামা ও মাশায়েখদের সম্মানে আরেকটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দুটি অনুষ্ঠানই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রী এতে অংশ নেবেন।
এদিকে পূর্বনির্ধারিত আরও দুটি ইফতার অনুষ্ঠানের সূচি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ মার্চ রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবং ১০ মার্চ সাংবাদিকদের সম্মানে পৃথক ইফতার মাহফিল আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই দুটি অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
বাংলাদেশে প্রতি বছর রমজান মাসে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন হয়ে থাকে। এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সাংবাদিক, আলেম-উলামা, এতিম শিশু এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসব আয়োজন সাধারণত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয় এবং তা সামাজিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও বিবেচিত হয়।
তবে চলতি বছর দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছেন। জানা গেছে, তিনি নিয়মিতভাবে নিজের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করছেন এবং ব্যক্তিগতভাবেই রমজানের সময় কাটাচ্ছেন।
সরকারি সূত্র বলছে, দেশের বর্তমান সামগ্রিক অবস্থা এবং জনমনের বাস্তবতা বিবেচনা করে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক এড়িয়ে সংযমী উদ্যোগ নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ও কমবে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বার্তাও যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত পরিসরে হলেও কূটনীতিক ও আলেম-উলামাদের সম্মানে ইফতার আয়োজন কূটনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এতিম শিশুদের অংশগ্রহণ মানবিক বার্তাও বহন করে।
এবার রমজানে রাষ্ট্রীয় ইফতার আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আয়োজনের মাধ্যমে ঐতিহ্য আংশিকভাবে বজায় রাখা হচ্ছে।
