ফিলিপ সাংমা গ্রেপ্তার: ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ধরা!

Share ফিলিপ সাংমা গ্রেপ্তার: ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ধরা!

পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বাংলাদেশের নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ আলমগীর হোসেনকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ধরা পড়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের অধিবাসী ফিলিপ সাংমা গ্রেপ্তারের বিষয়টি কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গোপন সূত্রের খবর পেয়ে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ফয়সাল করিম এবং আলমগীরকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানোর সহায়তা করেছেন। বাংলাদেশে গ্রেপ্তার এড়াতে পরে নিজেও অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়েন।”

গ্রেপ্তারের পর ফিলিপকে আদালতে তোলার পর পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ আলমগীর হোসেনকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালীতে এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়। পরে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালত তাদের ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়।

স্মরণীয়, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিবিদ্ধ হাদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও ছয় দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ফয়সাল করিম আলমগীর পলাতক ছিলেন। পুলিশ জানায়, তারা হামলার দিনই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এই সীমান্ত পারাপারে দালালদের সহায়তা ছিল। ফিলিপ সাংমা ছিলেন তাদের একজন। তার বাড়ি হালুয়াঘাট সীমান্ত সংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে। সীমান্তে টাকার বিনিময়ে মানুষ পারাপারের কাজ করতেন তিনি। পূর্বে ফিলিপের দুজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সাল আলমগীরকে ভারতে সহায়তা করার ঘটনা ধরা পড়ে।

এদিকে, ফিলিপসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পর ফয়সাল আলমগীরকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হাদির হত্যাকাণ্ডের মামলায় দেশে পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তবে দুইজন—যার মধ্যে একজন হলো ফিলিপ—এখনো পলাতক।

গত জানুয়ারি এই মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজির কারণে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডি

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo