নবম পে-স্কেল: এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়ছে, তবে সুবিধায় বৈষম্য রয়ে গেল
Share
নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কি তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়বে?
সরকারি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, তাদের মূল বেতন নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বাড়ার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব জানান, “সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যেসব কর্মচারী বেতন পান, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতনও সেই কাঠামোর ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।”
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী নন। তারা বেতন পান সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে। ফলে সরকারি কর্মচারীর মতো সব সুবিধা তারা পান না। কর্মকর্তারা জানান, “অনুদান হলেও এটি সরকারের মাধ্যমে দেয়া হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন গ্রেড রয়েছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাদের মূল বেতন বাড়ার কথা।”
🔹 মূল বেতন বৃদ্ধি ও বৈশাখী/উৎসব ভাতা
শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়বে। মূল বেতন বাড়লে বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তবে বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা সীমিত—মূল বেতনের ১৫ শতাংশ, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ভাতা ৪৫–৬০ শতাংশ।
🔹 চিকিৎসা, টিফিন ও বিনোদন ভাতায় বৈষম্য
চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুবিধা সীমিত। বর্তমানে তারা মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান, যেখানে সরকারি কর্মচারী ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।
টিফিন ভাতা ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। সরকারি কর্মচারীর জন্য টিফিন ভাতা ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান না। বিনোদন ভাতা—যা সরকারি কর্মচারী মূল বেতনের সমপরিমাণ পান—এমপিওভুক্তদের নেই।
🔹 শিক্ষা ভাতায় সুবিধা নেই
সরকারি চাকরিজীবী দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা পান, যা সুপারিশ অনুযায়ী দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়বে। এই সুবিধা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পর্যন্ত প্রযোজ্য। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা নেই।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন বেড়াবে, তবে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় তারা এখনও বৈষম্যের মুখোমুখি থাকবেন। ফলে মোট বেতন বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সুবিধার ক্ষেত্রে এখনো বড় ফারাক রয়েছে সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে।
