ভ্যাট ফাঁকি ধরতে এনবিআরের বিশেষ টাস্কফোর্স, বাড়ানো হবে কর-জিডিপি অনুপাত
Share
দেশে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ফাঁকির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানো এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই হবে এই টাস্কফোর্সের প্রধান দায়িত্ব।
বুধবার এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে এনবিআর। আদেশ অনুযায়ী, ১০ সদস্যের এই টাস্কফোর্সে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার সামছুল ইসলাম। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনবিআরের প্রথম সচিব রুহুল আমিনকে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভ্যাট ফাঁকি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন খাতে প্রকৃত লেনদেন গোপন করা, সঠিকভাবে ভ্যাট প্রদর্শন না করা এবং কর পরিশোধে অনিয়মের কারণে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এই টাস্কফোর্স কাজ করবে।
এনবিআরের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে টাস্কফোর্সকে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সেই পরিকল্পনায় ভ্যাট ফাঁকি রোধ, কর জাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব আদায়ের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর পাশাপাশি টাস্কফোর্সের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বকেয়া কর আদায়ের বিষয়টি জোরদার করা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কর বকেয়া দ্রুত আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে তারা। একই সঙ্গে চলমান কর-সংক্রান্ত মামলা ও অডিট কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়াও টাস্কফোর্সের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় রাজস্ব সংগ্রহে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ভ্যাট ফাঁকি শনাক্ত করা এবং কর জাল সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতেও সহায়ক হবে।
এনবিআরের নতুন এই টাস্কফোর্সকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে ভ্যাট ফাঁকি কমিয়ে রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
