ক্ষমতায় এলে নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো হবে—ঘোষণা জামায়াতের আমিরের
Share
নারীদের কর্মজীবন ও পারিবারিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ক্ষমতায় এলে নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। এক জনসভা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তাদের পরিবার, সন্তান ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সে কারণে কর্মজীবী নারীদের জন্য মানবিক ও বাস্তবসম্মত কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক নারীকে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে থাকতে হয়, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জামায়াতে ইসলামী নারীদের জন্য এমন একটি কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তারা নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে কাজ করতে পারবেন।
নারী অধিকার ও শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়টি ইতিবাচক হতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নীতিগত স্পষ্টতা প্রয়োজন। কোন খাতে, কোন বয়সের বা কোন ধরনের চাকরিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে—তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে নতুন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর ঘোষণা সেই রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের রূপরেখা ছাড়া এমন ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্যোগ নারীদের কর্মসংস্থান সীমিত করার জন্য নয়; বরং কর্মক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হবে। প্রয়োজনে খাতভিত্তিক আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের কর্মজীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে—তা নিয়ে এখন নজর সবার।
