ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সংঘর্ষ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ

Share ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে সংঘর্ষ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ

রাজধানীতে আন্দোলন চলাকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ইনকিলাব মঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে তারা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেন। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেয়। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এই সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি সংগঠনটির। তবে গুলি কীভাবে ছোড়া হয়েছে এবং কার পক্ষ থেকে এসেছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে কয়েক দফা আলটিমেটাম দিয়ে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের প্রধান দাবি ছিল—শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে পরিচালনা করা এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।

সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, বারবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের পরও তাদের দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত দমন-পীড়নের অংশ এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

ঘটনার পর রাজধানীর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে রয়েছে, আর যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo