নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধন ঘিরে বিএনপি–এনসিপির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

Share নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধন ঘিরে বিএনপি–এনসিপির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাতিয়ার নলছিরা ফেরিঘাট এলাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত ফেরি উদ্বোধন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরি উদ্বোধন উপলক্ষে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে নলছিরা ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হন। কর্মসূচির শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্লোগান থেকে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় ফেরিঘাট এলাকায় যান চলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।

ঘটনার পরপরই এনসিপির পক্ষ থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তোলা হয়। তারা সংঘর্ষে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাতিয়া থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণাও দেন এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পতিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম হাতিয়ায় সন্ত্রাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। আমরা এই হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “হাতিয়ার মানুষ জানে কারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিনা উসকানিতে এনসিপির নেতাকর্মীরাই বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ফেরি উদ্বোধন ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা রাজনৈতিক সহিংসতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo