সেনাবাহিনী প্রধান শরীয়তপুরে: শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার নির্দেশ
Share
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর। তিনি বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শরীয়তপুর পরিদর্শন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে তিনি ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে বিশেষভাবে আলোচনা হয় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্দেশ দেন, সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে সতর্ক, পেশাদার এবং জনগণবান্ধব আচরণ বজায় রাখুন।
পরিদর্শনকালে তিনি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এতে সেনা সদস্যরা বুঝতে পারেন কীভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে জনগণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
শরীয়তপুর জেলা পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া; সেনাসদর ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ। এছাড়া অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি ভোট গ্রহণের নিরাপত্তা, শান্তি বজায় রাখা এবং নাগরিকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে শক্তিশালী করছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই নির্দেশনা দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে পেশাদারিত্ব, সমন্বয় এবং জনগণবান্ধব মনোভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সেনাবাহিনী প্রধানের সরেজমিন পরিদর্শন ও মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে যে, আসন্ন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
