রাজার ছেলে রাজা হবে না’—গাজীপুরের জনসভায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের বড় বার্তা
Share
গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন,
🔴 “আমরা রাজনীতিতে ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এই ধারা পাল্টে দেব ইনশা আল্লাহ। একজন শ্রমিক ভাই কিংবা বোনের সন্তান মেধাবী হলে তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।”
তার প্রত্যাশা, শ্রমজীবী মানুষের ঘর থেকেও একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী উঠে আসবে।
মঙ্গলবার বিকেলে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ থেকে হেলিকপ্টারে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন এবং বেলা সোয়া তিনটার দিকে সমাবেশস্থলে পৌঁছান।
গাজীপুরকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন,
🟢 “গাজীপুর বাংলাদেশের জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখলেও এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম সংকট রয়েছে।”
তার ভাষায়, যার যেমন অবদান, তাকে তেমন মূল্যায়ন করাই ইনসাফ। জামায়াত ক্ষমতায় এলে যুবসমাজকে ভাতা দিয়ে নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে দেশের নেতৃত্বে বসানো হবে বলে তিনি জানান।
নারীদের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন,
⚠️ “কেউ কোনো মায়ের গায়ে হাত দেবে না। যারা মায়েদের সম্মান করতে পারে না, আল্লাহ তাদের অপদস্থ করেন।”
তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মায়েদের সম্মান রক্ষা করা হবে।
শ্রমিক অধিকার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, অনেক মালিক শ্রমিকদের সম্মান দিলেও সংখ্যাটি খুবই কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য করা হয়।
🔴 “একই কাজের জন্য পুরুষ ও নারীর ভিন্ন বেতন—এই বৈষম্য আমরা দূর করব ইনশা আল্লাহ।”
তিনি নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তার ভাষায়,
🟢 “গর্ভকাল থেকে শিশুর আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত মায়েরা দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন, বাকি তিন ঘণ্টা সন্তানের জন্য বরাদ্দ থাকবে। ওই সময়ের বেতন সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেবে।”
এতে মায়েদের আয় কমবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
শিল্প এলাকায় নারী শ্রমিকদের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির। নির্দিষ্ট সংখ্যক নারী শ্রমিক থাকলে সেখানে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে জানান তিনি, যাতে কাজের ফাঁকে মায়েরা সন্তানকে দুধ খাওয়াতে ও খোঁজ নিতে পারেন।
গাজীপুরের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন,
🔔 “গাজীপুরের সাতটি দাবি আমার হাতে এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে রেলক্রসিংয়ে ওভারপাসসহ সব সমস্যার সমাধান করা হবে।”
তহবিল কোথা থেকে আসবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের টাকা যারা বিদেশে পাচার করেছে, সুযোগ পেলে তাদের কাছ থেকেই অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেদের ভাগ্য বদলাতে নয়, ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলাতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই।”
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জেলা জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও নেতারা।
