ইউনূসকে জবাবদিহিতে আনতে হবে—স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন
Share
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে সরব হয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, যা ইতোমধ্যে জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “যারা ড. ইউনূসকে নিঃশর্ত সমর্থন করেন, তাদের উচিত তার প্রশংসার পাশাপাশি তার সিদ্ধান্তগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়া।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি (HPNSP) বা ওপি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এর ফলে দেশে হামসহ একাধিক প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকার সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে একসঙ্গে এত শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিরল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাম রোগের প্রকোপে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সাবেক গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগম-এর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সায়ের। তিনি জানতে চান, ঠিক কোন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সায়েরের বক্তব্য অনুযায়ী, নূরজাহান বেগম স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কী কী কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন, তার বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—এই নিয়োগ কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল এবং এর ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রশ্ন ও সমালোচনা একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সায়েরের বক্তব্যকে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিহিত করছেন।
স্বাস্থ্য খাতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এর প্রভাব নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তা এখন জনআলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপই এ পরিস্থিতিতে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
