সরকারি হাসপাতাল ফাঁকি দিলে শাস্তি: চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিতের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
Share
সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিতসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের মূল দায়িত্ব হলো সেখানে উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দেওয়া। কিন্তু কেউ যদি সরকারি দায়িত্বে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে সেবা দেন, তাহলে তা নিয়মবহির্ভূত এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
এ প্রসঙ্গে একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগে চিকিৎসক রাজেশ মজুমদারের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে পারেন।
শুধু সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকই নন, যে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি রোগী দেখছিলেন সেই প্রতিষ্ঠানকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কিন্তু চিকিৎসকরা যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট দূর করতে বড় নিয়োগ পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদে প্রায় এক লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এর মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া গেলে সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ রোগীরা আরও সহজে ও দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাবেন।
সরকারের এই পদক্ষেপ স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
