১৭ বছরে ঢাকা–৮ মাদক ও সন্ত্রাসে ধ্বংস, নির্বাচিত হলে এলাকা পরিষ্কারের অঙ্গীকার মির্জা আব্বাসের
Share
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, গত ১৭ বছরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে এলাকার সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচনে জয়ী হলে ঢাকা–৮ আসনকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। প্রচারণাকালে তিনি স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, গত দেড় দশকে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে।
মির্জা আব্বাস বলেন, “গত ১৭ বছর আমার এলাকাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অপশক্তিগুলো সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমি নির্বাচিত হলে কথা দিচ্ছি—ঢাকা–৮ এলাকাকে এসব থেকে মুক্ত করবো।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু কথা শুনে মনে হচ্ছে—ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেছেন, ঢাকা শহরে তারা আমাদের একটি সিটও দেবে না। প্রশ্ন হলো, সিট দেওয়ার মালিক তারা কে? এই দেশের সিটের মালিক আল্লাহ এবং জনগণ।”
নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা আব্বাস আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে বিভিন্ন অপকৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মিথ্যা ডকুমেন্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাকে দুর্বল করার জন্য এআই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও ও কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। বটবাহিনী দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তারা জাতি ও গণতন্ত্রের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, কিছু মহল অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারী বক্তব্য দিচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁর মতে, এর পেছনে বিশেষ কোনো শক্তি সক্রিয় রয়েছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ সবকিছু বোঝে। শেষ পর্যন্ত জনগণই এই অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণই পারে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এই বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–৮ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে মির্জা আব্বাসের এই কঠোর অবস্থান ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়।
