বন্দর অচল, জাহাজ সংকট চরমে: আটকে আছে ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য

Share বন্দর অচল, জাহাজ সংকট চরমে: আটকে আছে ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য

দেশের রপ্তানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বন্দর জট ও জাহাজ সংকট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বন্দরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য আটকে আছে, যা সময়মতো বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে কনটেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত জাহাজ না থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্র ও ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া, কৃষিপণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের রপ্তানি চালান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্রেতা বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বলেও জানা গেছে।

রপ্তানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। একবার ক্রেতারা বিকল্প দেশ খুঁজে নিলে ভবিষ্যতে অর্ডার ফিরে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এক কর্মকর্তা জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি ও ডলার সংকট একসঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও এই সংকটের অন্যতম কারণ।

রপ্তানিকারক সংগঠনগুলো সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়ানো, জাহাজ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, রপ্তানি খাতে এমন স্থবিরতা চলতে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

আটকে থাকা ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য শুধু ব্যবসায়ীদের সমস্যা নয়—এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo