১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমান বাংলাদেশের এমডি–সিইও ও স্ত্রী কারাগারে

Share ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমান বাংলাদেশের এমডি–সিইও ও স্ত্রী কারাগারে

রাজধানীর উত্তরায় ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আজ সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া অন্য দুই আসামি হলেন সাফিকুর রহমানের বাসার গৃহকর্মী রুপালী খাতুনমোছা. সুফিয়া বেগম। এদের মধ্যে রুপালী খাতুনের দুই বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। অভিভাবক না থাকায় সন্তান দুটিকেও মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা আদালতে উপস্থিতদের মধ্যে মানবিক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন, তাঁদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি রোডের একটি বাসা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বাদী নির্যাতিত শিশুটির বাবা, যিনি পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। তিনি অভিযোগ করেন, বাসাটির নিরাপত্তারক্ষী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আসামিদের পরিচয় হয়। তখন তাঁকে জানানো হয়, বাসায় একটি ছোট মেয়েকে গৃহকর্মী হিসেবে প্রয়োজন। শিশুটির বিয়ে ও ভবিষ্যৎ খরচ বহনের আশ্বাসে গত বছরের জুন মাসে তিনি মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়েকে সর্বশেষ সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন তিনি। এরপর একাধিকবার দেখা করতে গেলে নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হয়। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে শিশুটি অসুস্থ বলে জানালে তিনি মেয়েকে নিতে যান। সন্ধ্যায় মেয়েকে বুঝে পাওয়ার পর তিনি দেখেন, তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও পোড়া দাগ রয়েছে, এবং সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না।

পরে শিশুটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায়, গত ২ নভেম্বরের পর বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হয় এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছেঁকা দেওয়া হয়

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাদী ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo