মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব: বাংলাদেশে কতদিন চলবে ডিজেল, অকটেন ও জেট ফুয়েল—তথ্য দিল বিপিসি
Share
ইরানকে ঘিরে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে প্রতিদিন ওঠানামা বাড়ছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিপিসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বর্তমান মজুতের চিত্র তুলে ধরেন। বিপিসির পাঠানো লিখিত তথ্যে একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোন জ্বালানি কতদিন চলবে?
বিপিসি জানায়, বর্তমানে দেশে—
-
ডিজেল মজুত আছে ১৪ দিনের,
-
অকটেন ১৭ দিনের,
-
পেট্রোল ৯ দিনের,
-
ফার্নেস ওয়েল ৩৫ দিনের,
-
জেট ফুয়েল ২১ দিনের,
-
কেরোসিন প্রায় ২০০ দিনের,
-
এবং মেরিন ফুয়েল ৪২ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো সংরক্ষিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের ১৫ থেকে ৬০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো মজুত বিপিসির গুদামগুলোতে রাখা হয়। পরিস্থিতি, আমদানি সূচি ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে এই মজুত কম-বেশি হতে পারে।
বৈশ্বিক উত্তেজনা ও বাজারের প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হলে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়েছে, যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলেই নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।
সরকারের প্রস্তুতি
বিপিসি জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা এবং কৌশলগত মজুত ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান মজুত পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি হয়ে উঠবে।
এ অবস্থায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত আপডেটের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিপিসি।
