টিকিট যুদ্ধ, হোটেল আতঙ্ক ও আকাশছোঁয়া খরচ—২০২৬ বিশ্বকাপ কেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে

Share টিকিট যুদ্ধ, হোটেল আতঙ্ক ও আকাশছোঁয়া খরচ—২০২৬ বিশ্বকাপ কেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে এক মহোৎসব। তবে আনন্দের এই আয়োজন দর্শকদের জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল এক বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। টিকিট সংকট, হোটেল ভাড়া বৃদ্ধি, যাতায়াত ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভ্রমণ খরচ আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাতায়াতের জন্য বিমানভাড়া ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয় দর্শকদের বড় চাপে ফেলবে।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে টিকিট যুদ্ধ। অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর আগেই কালোবাজারে বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক ফুটবলপ্রেমী অভিযোগ করছেন, সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে বড় আতঙ্ক তৈরি করেছে হোটেল ভাড়া। আয়োজক শহরগুলোতে বিশ্বকাপের সময় হোটেল বুকিং কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। কিছু শহরে সাধারণ মানের হোটেলের এক রাতের ভাড়া কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা প্রায় বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় আকারের এই আয়োজন থেকে আয়োজক দেশগুলো বিপুল অর্থনৈতিক লাভ পেলেও দর্শকদের খরচের চাপ নজিরবিহীন। খাবার, যাতায়াত, নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত ব্যয় যোগ হলে পুরো বিশ্বকাপ ভ্রমণ একটি বড় বাজেট প্রকল্পে পরিণত হচ্ছে।

ফিফার পক্ষ থেকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সরাসরি মাঠে বসে খেলা দেখা দিন দিন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

মাঠের উত্তেজনা শুরুর আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য তৈরি করছে আর্থিক চাপ ও অনিশ্চয়তা। ফুটবলপ্রেম আর বাস্তবতার এই সংঘাতই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত করতে চলেছে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo