দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন, বিশেষ ফ্লাইট চালু ইউএস-বাংলার

Share দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন, বিশেষ ফ্লাইট চালু ইউএস-বাংলার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ জন বাংলাদেশি অবশেষে দেশে ফিরেছেন। বিশেষ ফ্লাইটে করে বৃহস্পতিবার সকালে তারা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর দেশে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে কিংবা ভিসা সংক্রান্ত কারণে দুবাইয়ে অবস্থান করা অনেক বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে যাত্রীদের দেশে ফেরানো হয়।

প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে একই ফ্লাইট দুবাই থেকে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং সকালে বাংলাদেশে পৌঁছে। এই ফ্লাইটেই বেশিরভাগ যাত্রী দেশে ফিরে আসেন।

এরপর বিকেলে দ্বিতীয় একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। রাতেই সেই ফ্লাইটটি দুবাই থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে বা খুব শিগগির শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ ফ্লাইটে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে করে অনেক যাত্রী সম্ভাব্য আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

এদিকে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সীমিত সংখ্যক বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এর আওতায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পাশাপাশি এমিরেটস ও এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পায়।

দেশে ফিরে আসা যাত্রীদের অনেকেই জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় কয়েকদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়েছে তাদের। তবে বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্রুত দেশে ফিরতে পারায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন হলে আরও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা চলতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

© 2016-2026 | 24 online newspaper All rights reserved.
24 online newspaper logo