ট্রাম্পের অর্থনৈতিক দাবির ফ্যাক্টচেক: মূল্যস্ফীতি, চাকরি ও গ্যাসের দামের বাস্তবতা
Share
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্ণ হয়েছে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে একাধিক দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্যের বড় অংশ বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কোনো মূল্যস্ফীতি নেই। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে কোর ইনফ্লেশন ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।
ওষুধের দাম নিয়ে ট্রাম্পের আরেকটি দাবি ছিল আরও বিতর্কিত। তিনি বলেন, তাঁর ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ কর্মসূচির ফলে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোনো পণ্যের দাম ১০০ শতাংশের বেশি কমা গাণিতিকভাবে অসম্ভব। ফলে এই বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুল্ক আরোপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আদালত তাঁর প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিলে সরকারকে শুল্ক হিসেবে আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো অর্থ নয়—কেবল একটি অংশ ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুল্ক আরোপ করেননি—ট্রাম্পের এই দাবিও ভুল। বাইডেন প্রশাসন রাশিয়া, চীন ও কানাডাসহ একাধিক দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল। বিশেষ করে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সেমিকন্ডাক্টর পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক বসানো হয়েছিল।
চাকরিচ্যুত সরকারি কর্মচারীদের কর্মসংস্থান নিয়েও ট্রাম্প আশাবাদী মন্তব্য করেন। তবে বিএলএসের তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৪ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।
গ্যাসের দাম গ্যালনে ১ দশমিক ৯৯ ডলার—এই দাবিও সঠিক নয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনে ২ দশমিক ৮২ ডলার।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের বক্তৃতায় দেওয়া একাধিক অর্থনৈতিক দাবি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
