ইসলামাবাদের মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা: নিহত ৩৬, আইএসের দায় স্বীকার, যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিত আনসারুল্লাহর
Share
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬৯ জন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাদিজা কুবরা (সা.) মসজিদে এই মর্মান্তিক হামলাটি ঘটে, যা দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর দায় স্বীকার করে। তবে এই হামলার নেপথ্য পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক দপ্তর। এক বিবৃতিতে তারা এই বিস্ফোরণকে “বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক” হামলা হিসেবে আখ্যা দেয় এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করে।
আনসারুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম দেশগুলোতে তাকফিরি ও উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ বিভেদ সৃষ্টি করছে। তাদের লক্ষ্য—মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত রাখা, যাতে তারা ইসলামী পবিত্রতা ও বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ২৪ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পাকিস্তানে সুন্নি মুসলমানদের সংখ্যা বেশি হলেও শিয়া সম্প্রদায় একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু। দেশটিতে শিয়া মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। অতীতেও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)সহ বিভিন্ন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর হামলার লক্ষ্য হয়েছেন তারা।
এই হামলার পর ইসলামাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছেন, কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি জোরদার করেছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
